ক্লাস এইট এ ফিরলাম আবার গরীবে নেওয়াজ এ। ফিরে পেলাম পুরোনো বন্ধু সাব্বির, হিমেলকে। অনেক বন্ধুই তখন অন্য সেকশন এ। ক্লাসে নতুন ভাবে পরিচয় হল সাদমান, অপু, অনিক, শোভন (গোলাপী)-র সাথে। শোভনের সেবার এইট এ দ্বিতীয় বছর। ও প্রথমবার ভালো রেজাল্ট না করায় "সায়েন্স" পায়নি দেখে আবার এইট এ ভর্তি হয়েছে। শোভন এখন আমার অনেক কাছের বন্ধু হলেও সেই বছর শোভনের সাথে আমার তেমন ঘনিষ্ঠতা হয়নি।
এখানে একটা কথা বলে নেই, ক্লাস সেভেন এর শেষের দিকে ক্যাডেট কলেজ এ ভর্তি পরীক্ষা দিতে হত। আমার বাবা আমাকে ক্যাডেট কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলেন বছরের শেষের দিকে। কোচিং সেন্টারের পরিচালক বললেন যে তখন তো পরীক্ষা দেয়ার সময় নাই। পরের বছর যাতে পরীক্ষা দেই। তো ক্লাস এইট এ আমি ক্যাডেট কোচিং এ ভর্তি হলাম। ক্যাডেট ভর্তি কোচিং নিয়ে আরেকদিন বলা হবে। এখন কোচিং এর কথা বললাম কারণ, ক্লাস এইট এ আমাকে সেভেন-এইট এই দুই ক্লাসের বই-ই পড়তে হয়েছে। অর্থাৎ স্কুল, কোচিং নিয়ে মোটামুটি একটা ভালোই চাপ গেছে সে বছর। তবে চাপের মুখেও আনন্দ করতে ভুলে যাইনি।
আমরা ক্লাসের কয়েকজন মিলে একটা গ্রুপের মত তৈরি করেছিলাম। আমি, হিমেল, সাব্বির, অপু, অনিক, সাদমান, লিমন এবং আরো কয়েকজন যাদের নাম মনে নেই। আমাদের স্কুলের একটু সামনে একটা অনেক বড় খালি জায়গা ছিল। অনেকটা পরিত্যাক্ত অবস্থা। তার সামনের অংশে ছিল দুইটা নিম গাছ। সেই গাছ দুইটা ছিল আমাদের বসার জায়গা। কথায় বলেনা যে "বাঁদরামো", আমাদের তখন অবস্থা বাঁদরের মতই। গাছে পা ঝুলিয়ে বসে আড্ডা দেয়া। সে জায়গার চারপাশের দেয়াল ছিল ভাঙ্গা ভাঙ্গা। আমরা কখনো সেই দেয়ালের উপর ঘুরতাম। সেই ছিল এক অন্য রকম এডভেঞ্চার। ভাঙ্গা দেয়াল পার হওয়া। অনেক সবধান থাকতে হত। নাহলে যে পড়ে যেতে হবে। সেই জায়গার সামনে ছিল খুব চিকন একটা গেইট। আমরা প্রায় সেই গেইট এর উপর হেঁটে পার হওয়ার খেলা খেলতাম। মোটকথা ক্লাস এইট এর ওই বছরে আমাদের বড় একটা সময় কেটেছে ওই জায়গা ঘিরে।
এখন কিন্তু সেই জায়গাটা পরিত্যাক্ত নেই। নেই সেই ভাঙ্গা দেয়াল কিংবা সেই নিমগাছগুলো। এখন সেখানে আধুনিক এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। মাঝে মাঝে স্কুলটা দেখে খারাপ লাগে...মিস্ করি আমাদের সেই দিনগুলো।
ক্লাসে সে বছর আমার সাথে খুব ঘনিষ্ঠতা হয় অপুর সাথে। মজা হত বেতন নেয়ার দিনগুলোতে। আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন "একরাম স্যার"। তিনি বেতন নেয়ার দিন খুব দিশেহারা হয়ে যেতেন। কারন ক্লাসে এত বেশি ছেলে ছিল যে স্যার কুলিয়ে উঠতে পারতেন না। আর ছেলেরাও কম যায় না। এত কথা বলত যে ক্লাস টা তখন মাছের বাজার হয়ে যেত। আমি আর অপু তখন ইচ্ছা করে বেশি বেশি কথা বলতাম। স্যার তখন বিরক্ত হয়ে আমাদেরকে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে ভাঙ্গতি করে আনতে বলতেন। আমি আর অপু তখন ভাংতির নাম দিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতাম। তারপর দুই ঘন্টা ঘুরে এসে স্যারকে ভাংতি দিতাম।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের বৃত্তি কোচিং শুরু হয়। সেইটা ছিল আরেক মজার অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে কোচিং করে তারপর শুরু হত খেলা। আবার সেই কোচিং এর দোহাই দিয়ে ক্লাস মিস দিতাম। আমরা নিয়ম বানালাম যে, যারা বৃত্তি কোচিং করবে তারা টিফিন এর পরে ক্লাস করা লাগবে না। এই নিয়ম এপ্লাই করে আমরা ক্লাস মিস দিতে শুরু করলাম। আসলে এই ধরনের কোন নিয়ম ছিল না। পরে ধরা খেয়ে আবার ক্লাস করা শুরু করি। তো এইভাবে পরীক্ষা দেই। আবার ভালো করি। বার্ষিক পরীক্ষায় রেজাল্ট হয় রোল তিন। অনিকের এক আর অপুর দুই। কিন্তু সেবার বৃত্তি আর পাওয়া হয়নি। ওই যে ক্যাডেট কলেজ এর কোচিং এর জন্য ভালোভাবে পড়েছি। তাই বৃত্তি মিস। অবশ্য এর সুফলও পরে পেয়েছি, ক্যাডেট কলেজে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম।
মোটামুটি এইভাবে এইট এর বছরটা পার করলাম...:) :)
আমার ব্লগ...আমার স্বাধীনতা...আমার পৃথিবী
আমার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং আমার চিন্তাধারা নিয়েই আমার এই ব্লগ...
বুধবার, ২১ জুলাই, ২০১০
মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০১০
আমার স্কুল এবং বন্ধুরা ৩
ক্লাস সেভেন এর কথা লেখা শুরু করি। ক্লাস সেভেন আলাদা হিসেব করার কারণ ওই বছর আমার জীবনে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। ক্লাস সেভেনে পরীক্ষা দেই "শহীদ লেফটেনেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ মুশফিক বীর উত্তম উচ্চ বিদ্যালয়"। এই স্কুলটা ওই এলাকার মোটামুটি ভালো স্কুল ছিল তাই "গরীবে নেওয়াজ" থেকে গেলাম মুশফিকে। মুশফিকে আমার ছোটবেলার বন্ধু শজারু শোভন আবার আমার সঙ্গী হল। কিন্তু সেই বছর শজারুর চেয়েও যার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হল তার নাম "ব্রীজ"। ব্রীজের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতার কারণ ওর বাবার বই এর কালেকশন। ব্রীজের বাবা ছিল একজন বিশাল বই সংগ্রাহক। ওর বাসায় যখন আমি প্রথম যাই তখন অবাক হয়ে দেখি, বাসার সোফা এবং আরো কয়েকটি ফার্নিচার ঘরের বাইরে খোলা জায়গায় তেরপল দিয়ে ঢাকা। আর ঘরের ভেতরে আসবাবের পরিবর্তে বই আর বই। এমন বাসা আমি কখনো দেখি নাই এবং ভবিষ্যতে দেখব বলে মনে হয় না। বাসার মেঝে থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত শুধু বই। খাটের নিচ, বিভিন্ন তাক (রান্নাঘর, বাথরুমের উপরে), আলমারি, মানে যে দিকে তাকাই খালি বই। আমি যে কি অবাক হয়েছিলাম তা বলে বোঝাতে পারব না!
এরপর থেকে শুরু হল আমার বই হনন প্রক্রিয়া। একেকটা বই এর স্তুপে উঠে একেকদিন একেক বই নিতাম। বাসায় এসে সেগুলো পড়তাম। কিছুদিন পর দেখা গেল আমি পাঠ্য বাই বাদ দিয়ে শুধু গল্পের বই পড়ি। যার ফলে আমার বাসা থেকে বই পড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হল। কিন্তু নিষিদ্ধ হলে কি হবে, বই পড়া তো বাদ দেয়া যায় না। তখন সেই পুরানো প্রসেস। পাঠ্য বই এর ভেতরে গল্পের বই রেখে পড়া। অতঃপর ধরা খাওয়া এবং পিটুনি। এরপর বই পড়া শুরু হল রাস্তায়। স্কুল যাবার পথে হেঁটে হেঁটে বই পড়া। সেখানেও নালিশ। তারপর ক্লাসে বসে বই পড়া। এভাবে চলতে থাকল।
ক্লাসের অন্যান্য ছেলেদের কথা বলি। নাহিয়ান ছিল ফার্ষ্ট বয় এবং ক্যাপ্টেন। তাই ক্লাসে ওর দাপটের অভাব ছিল না। স্যার না থাকা অবস্থায় ক্লাসে কথা বলার জন্য নাহিয়ান এর অনেক মার খেয়েছি। মারের প্রসেস ছিল মাথার মধ্যে হতের মাঝের আঙ্গুল মুঠো করে মারা। প্রচন্ড ব্যাথা পাওয়া যেত। নাহিয়ান আর আমি এখন ইউনিভার্সিটিতে একই ডিপার্টমেন্টে পড়ি। তবে এই নাহিয়ান আর আগের নাহিয়ান আকাশ পাতাল তফাৎ।
এছাড়া ছিল রায়হান, মিহির, মুন্না, আসিফ, শিবলি এবং আরো অনেকে। আমাদের ক্লাস হত মেয়েদের সাথে। তবে মেয়েদের সাথে আমাদের কথা হতনা। তাই তাদের কারো নাম এখন মনে নাই। শুধু মনে আছে দুজন জমজ বোন ছিল। ওই স্কুলে টিফিনে আমাদের খেলা হত "গোল্লাছুট"। আমি পারতাম না। তাই আমাকে বেশির ভাগ সময় গোল্লা বানানো হত।
ওই স্কুলে আমার অপছন্দের স্যারের অভাব ছিল না। একজনের নাম রিপন। সে অংক করাত। যদিও সে অংকের অ ও জানে না। তার কাছে কোচিং করলে তারা ভালো মার্কস পেত বাকিরা গোল্লা। তার কোচিং এ পড়ানোর ব্যাপারটাও ছিল অদ্ভুত। তার কাছে প্রত্যেক ক্লাসের কিছু অংক নোট খাতা ছিল। সেসব খাতায় চ্যাপ্টার অনুসারে সব অংক করা ছিল। তার কাছে যারা পড়ত তাদেরকে একেকটা খাতা দেয়া হত এবং বলত যে অমুক চ্যাপ্টার থেকে নোট কর। তারপর সে ঘুম দিত। ছেলেমেয়েরা ওই চ্যাপ্টার নোট তুলে স্যারের বাসা থেকে চলে আসত। এই হল তার পড়ানোর প্রক্রিয়া। ওই স্কুলের মোটামুটি সব স্যারই কোচিং নির্ভর ছিল। তবে যদ্দুর মনে পড়ে নাহিয়ান কারো কাছে কোচিং করত না। বরাবরই নাহিয়ান ভালো ছাত্র ছিল। নাহিয়ানের প্রিয় বই ছিল "টুকুনজিল" আর "প্রজেক্ট নেবুলা"। এই দুইটা বই আমাকে পড়তে দেয়ার কথা। নাহিয়ান আমাকে টুকুনজিল পড়তে দিয়েছিল, কিন্তু প্রজেক্ট নেবুলা আনব আনব করে দেয়নি। :) :)
এর মধ্যে প্রথম সাময়িক এবং দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হল এবং জীবনে প্রথম বারের মত আমি ফস্কালাম। মানে আমার রোল এক থেকে পিছিয়ে গেল। শুধু পেছালই না বরং অনেক পেছাল। প্রায় বিশ এর কাছাকাছি। বাসায় তো হেব্বি কড়াকড়ি। বই পড়া অনেকটা বন্ধ হবার পথে।
এদিকে সেভেনে দূরের স্কুলে চলে যাওয়ায় রাশেদ এর সাথে আস্তে আস্তে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে লাগল। প্রথম দিকে আমার স্কুল ছুটি হলে আমি রাশেদ এর জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম ওর স্কুলের সামনে। ওর স্কুলে তখন টিফিন হত আর আমরা একসাথে বাসায় যেতাম। কিন্তু এই প্রসেস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আমার সাথে ব্রীজ এর ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সাথে সাথে রাশেদ এর সাথে দূরত্ব তৈরি হল। সেভেন এর মাঝামাঝি সময়ে রাশেদ এর সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। তারপর রাশেদ এর সাথে আবার দেখা হয় ক্লাস নাইন এ। তবে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ক্লাস টেন এ।
যাই হোক শেষ পর্যন্ত মুশফিক স্কুলে আমার রোল হয় ১৬। আমার বাসা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে আমাকে এই স্কুলে রাখা হবে না। কারণ আমি খারাপ হয়ে যাচ্ছি। আমার মা আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে আনতে গেলেন। তখন স্কুলের এক স্যার "নুরুল হক" আমার মাকে অনেক অপমান করলেন। আমি আজও বুঝি না যে সেটার কারণ কি ছিল। একজন গার্জিয়ান এর প্রতি যার নূন্যতম সম্মানবোধ নাই সে যে কিভাবে টিচার হয় আমি বুঝিনা। সেদিন আমার মা বাসায় এসে অনেক কেঁদেছিলেন। মুশফিক থেকে এসে আমার স্থান হয় আবার গরীবে নেওয়াজ এ। মোটামুটি এই হল আমার ক্লাস সেভেন জীবন।
এরপর থেকে শুরু হল আমার বই হনন প্রক্রিয়া। একেকটা বই এর স্তুপে উঠে একেকদিন একেক বই নিতাম। বাসায় এসে সেগুলো পড়তাম। কিছুদিন পর দেখা গেল আমি পাঠ্য বাই বাদ দিয়ে শুধু গল্পের বই পড়ি। যার ফলে আমার বাসা থেকে বই পড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হল। কিন্তু নিষিদ্ধ হলে কি হবে, বই পড়া তো বাদ দেয়া যায় না। তখন সেই পুরানো প্রসেস। পাঠ্য বই এর ভেতরে গল্পের বই রেখে পড়া। অতঃপর ধরা খাওয়া এবং পিটুনি। এরপর বই পড়া শুরু হল রাস্তায়। স্কুল যাবার পথে হেঁটে হেঁটে বই পড়া। সেখানেও নালিশ। তারপর ক্লাসে বসে বই পড়া। এভাবে চলতে থাকল।
ক্লাসের অন্যান্য ছেলেদের কথা বলি। নাহিয়ান ছিল ফার্ষ্ট বয় এবং ক্যাপ্টেন। তাই ক্লাসে ওর দাপটের অভাব ছিল না। স্যার না থাকা অবস্থায় ক্লাসে কথা বলার জন্য নাহিয়ান এর অনেক মার খেয়েছি। মারের প্রসেস ছিল মাথার মধ্যে হতের মাঝের আঙ্গুল মুঠো করে মারা। প্রচন্ড ব্যাথা পাওয়া যেত। নাহিয়ান আর আমি এখন ইউনিভার্সিটিতে একই ডিপার্টমেন্টে পড়ি। তবে এই নাহিয়ান আর আগের নাহিয়ান আকাশ পাতাল তফাৎ।
এছাড়া ছিল রায়হান, মিহির, মুন্না, আসিফ, শিবলি এবং আরো অনেকে। আমাদের ক্লাস হত মেয়েদের সাথে। তবে মেয়েদের সাথে আমাদের কথা হতনা। তাই তাদের কারো নাম এখন মনে নাই। শুধু মনে আছে দুজন জমজ বোন ছিল। ওই স্কুলে টিফিনে আমাদের খেলা হত "গোল্লাছুট"। আমি পারতাম না। তাই আমাকে বেশির ভাগ সময় গোল্লা বানানো হত।
ওই স্কুলে আমার অপছন্দের স্যারের অভাব ছিল না। একজনের নাম রিপন। সে অংক করাত। যদিও সে অংকের অ ও জানে না। তার কাছে কোচিং করলে তারা ভালো মার্কস পেত বাকিরা গোল্লা। তার কোচিং এ পড়ানোর ব্যাপারটাও ছিল অদ্ভুত। তার কাছে প্রত্যেক ক্লাসের কিছু অংক নোট খাতা ছিল। সেসব খাতায় চ্যাপ্টার অনুসারে সব অংক করা ছিল। তার কাছে যারা পড়ত তাদেরকে একেকটা খাতা দেয়া হত এবং বলত যে অমুক চ্যাপ্টার থেকে নোট কর। তারপর সে ঘুম দিত। ছেলেমেয়েরা ওই চ্যাপ্টার নোট তুলে স্যারের বাসা থেকে চলে আসত। এই হল তার পড়ানোর প্রক্রিয়া। ওই স্কুলের মোটামুটি সব স্যারই কোচিং নির্ভর ছিল। তবে যদ্দুর মনে পড়ে নাহিয়ান কারো কাছে কোচিং করত না। বরাবরই নাহিয়ান ভালো ছাত্র ছিল। নাহিয়ানের প্রিয় বই ছিল "টুকুনজিল" আর "প্রজেক্ট নেবুলা"। এই দুইটা বই আমাকে পড়তে দেয়ার কথা। নাহিয়ান আমাকে টুকুনজিল পড়তে দিয়েছিল, কিন্তু প্রজেক্ট নেবুলা আনব আনব করে দেয়নি। :) :)
এর মধ্যে প্রথম সাময়িক এবং দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হল এবং জীবনে প্রথম বারের মত আমি ফস্কালাম। মানে আমার রোল এক থেকে পিছিয়ে গেল। শুধু পেছালই না বরং অনেক পেছাল। প্রায় বিশ এর কাছাকাছি। বাসায় তো হেব্বি কড়াকড়ি। বই পড়া অনেকটা বন্ধ হবার পথে।
এদিকে সেভেনে দূরের স্কুলে চলে যাওয়ায় রাশেদ এর সাথে আস্তে আস্তে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে লাগল। প্রথম দিকে আমার স্কুল ছুটি হলে আমি রাশেদ এর জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম ওর স্কুলের সামনে। ওর স্কুলে তখন টিফিন হত আর আমরা একসাথে বাসায় যেতাম। কিন্তু এই প্রসেস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আমার সাথে ব্রীজ এর ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সাথে সাথে রাশেদ এর সাথে দূরত্ব তৈরি হল। সেভেন এর মাঝামাঝি সময়ে রাশেদ এর সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। তারপর রাশেদ এর সাথে আবার দেখা হয় ক্লাস নাইন এ। তবে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ক্লাস টেন এ।
যাই হোক শেষ পর্যন্ত মুশফিক স্কুলে আমার রোল হয় ১৬। আমার বাসা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে আমাকে এই স্কুলে রাখা হবে না। কারণ আমি খারাপ হয়ে যাচ্ছি। আমার মা আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে আনতে গেলেন। তখন স্কুলের এক স্যার "নুরুল হক" আমার মাকে অনেক অপমান করলেন। আমি আজও বুঝি না যে সেটার কারণ কি ছিল। একজন গার্জিয়ান এর প্রতি যার নূন্যতম সম্মানবোধ নাই সে যে কিভাবে টিচার হয় আমি বুঝিনা। সেদিন আমার মা বাসায় এসে অনেক কেঁদেছিলেন। মুশফিক থেকে এসে আমার স্থান হয় আবার গরীবে নেওয়াজ এ। মোটামুটি এই হল আমার ক্লাস সেভেন জীবন।
আমার স্কুল এবং বন্ধুরা ২
গতকাল আমার ক্লাস সিক্স পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা লিখেছিলাম। তবে খেয়াল করে দেখলাম যে ক্লাস ফাইভ এ পড়ার সময়ের তেমন কোন কথাই আমার লেখায় আসেনি। পরে বুঝলাম যে, আমার ক্লাস ফাইভ এর কোন বন্ধুর নাম মনে নেই!!!
কেন মনে নেই তা পরে বুঝলাম। আমার যে দুজন ছোটবেলার বন্ধুর কথা আমি বলেছি শোভন এবং অপু, তাদের সাথে আমার এখনও যোগাযোগ আছে। কিন্তু আমার গ্রামের সেই বন্ধুগুলোর কারো সাথেই আমার আর যোগাযোর হয়নি। সেই একটি বছর তাদের সাথে কাটিয়ে এখন তাদের নাম মনে করতে পারছিনা। আমি নিজের কাছেই অনেক লজ্জিত। ক্লাস ফাইভ এর বছর আমার জন্য অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। কারণ এর আগে আমি ছিলাম শহরের পুতুল পুতুল ছেলে। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতাম, পরিষ্কার কাপড় পরতাম, ভালো ছাত্র ইত্যাদি। কিন্তু ওই একটি বছর যে আমি কত পরিবর্তিত হয়েছিলাম তা বলে শেষ করা যাবে না। বন্ধুদের সহায়তায় সাইকেল চালানো শিখেছি, গাছে চড়েছি, বুনো ফল খেয়েছি, কত দূরে দূরে যে চলে গিয়েছি তা নিজেও জানি না। একেকদিন টিফিন এর সময় আমাদের অভিযান শুরু হত। এক-দেড় ঘন্টায় শেষ হত সেই অভিযান। আমি তাদের সাথে থাকতাম, তারা আমাকে নানান জিনিস চেনাত, কোনটা কি তা বুঝাত, আরো কত কি!!!
কয়েকটি মজার ঘটনা বলি। একবার এক বন্ধুর সাইকেল দিয়ে সাইকেল চালানো শিখছি, ওরা আমাকে পেছন থেকে ধরে রেখেছে, আমি প্যাডেল ঘুড়াচ্ছি। কিন্তু কখন যে ওরা সাইকেল পেছন থেকে ছেড়ে দিয়েছে আমি জানি না। হঠাৎ সামনে দেখি আমার ক্লাসের মেয়েরা এক্কা দোক্কা খেলছে। আমি ওদের কাছে পৌঁছে গেছি আর চিৎকার করছি "সাইকেল থামা, সাইকেল থামা"। কিন্তু আমার পেছনে তো কেউ নাই । কে থামাবে? আমি ব্রেক করতে পারিনা। দিলাম ক্লাসের এক মেয়ের গায়ে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা। ওই ব্যাচারী অনেক ব্যথা পেল। অনেক কান্নাকাটি করল। একমাত্র হেড-মাষ্টার এর নাতি দেখে ছাড় পেয়ে গেলাম। পরে সেই মেয়েকে এক পাতা নাপা কিনে দিয়েছিলাম।
আরেকবার এক বন্ধু এসে বলল "বান্দরশলা চিনিস?" আমি বলি "না"। পরে সে আমাকে বান্দরশলা এনে দেয়। বলে এইগুলা কারো গায়ে দিবি আর ওরা চুলকাতে চুলকাতে পাগল হয়ে যাবে। তখন ক্লাসে দুইটা ভাগ। ছেলেরা এক দল। মেয়েরা এক দল। আসলে ওই বন্ধু চাচ্ছিল আমাকে দিয়ে মেয়েগুলাকে একটু শায়েস্তা করতে। কারণ তারা যদি ধরা খায় তাহলে হেব্বি পিটুনি আছে। আর আমি ধরা খাইলে কোন সমস্যা নাই। আমি তখন তো অত বুঝি নাই। ওদের কথা মত মেয়েদের পাশে গিয়ে কাগজ খুলে দিলাম ফুঃ। আর তার কিছুক্ষন পর দেখি জাদু শুরু হয়েছে। সব মেয়েরা চুলকানো শুরু করেছে। তবে বান্দরশলা তো মালিক মানে না, তাই কিছু উড়ে এসে আমাদের গায়েও আশ্রয় নিয়েছিল। তাই চুলকানির জাদু আমাদেরো ছাড় দেয়নি। সেইদিন চুলকানির জ্বালায় আমাদের ক্লাস করা হয়নি। তবে আনন্দের বিষয় ছিল কেউই ধরা খায়নি।
সেই বান্দরশলা নিয়ে কত কাহিনী...ক্লাসে একটাই হিন্দু ছেলে ছিল আমরা তাকে বান্দরশলা দিয়ে কালেমা পড়িয়েছিলাম। আমরা ভাবলাম কি পূণ্যের কাজ করে ফেলেছি। তখন শুনেছিলাম কেউ যদি অন্য ধর্মের কাউকে মুসলিম বানায় তাহলে বেহেশতে যাবে। আমরা তো ভাবলাম আমাদের বেহেশত নিশ্চিত। হাহাহা...
সেই ক্লাসের এখন দুইটা মেয়ের নাম শুধু মনে আছে। একজন হল খালেদা (বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মিল থাকায়), আর আরেক জন হালিমা (যে এখন আমার মামী)। এছাড়া আর কারো নামই আমার মনে নাই। আমার ক্লাস ফাইভ এর সকল বন্ধুদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। হয়তো তোদের সাথে কখনো দেখা হবে না। তবে তোরা সবসময় ভালো থাকিস।
ক্লাস সিক্সের একটা ঘটনা ভুলে গিয়েছিলাম। একবার ৩-৪টা তেলাপোকা ধরে একটা ব্রাউন পেপারে মুড়িয়ে ক্লাসে নিয়ে গেছি। ক্লাসে ছিল আনিস নামের বিশাল এক ছাত্র। তখন মনে হত "আলিফ লায়লার" দৈত্য। যাই হোক আনিসকে বললাম যে ওর জন্য গিফট এনেছি। ও তো খুশি হয়ে গিফট খুলল। আর তখন সব তেলাপোকা আনিস এর গা বেয়ে উঠতে লাগল। আর তার সে কি চিৎকার!! আমাদের তো হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গিয়েছিল।
আরেকবার ক্লাসের সব ছেলেদের মাথায় কি এক ভূত চাপল। হাতের চামড়া চুষতে থাকলে রক্ত জমাট বেধে জায়গাটা লাল হয়ে যায়। আমরা হঠাৎ এক খেলা শুরু করলাম যে কে কার চেয়ে বেশি লাল করতে পারে। যেই বলা সেই কাজ নিজেই নিজের হাতের চামড়া চুষছি আর দেখছি কতটা লাল হয়েছে। আমাদের এক ম্যাডাম ছিল নাম নীলিমা। তিনি এসে আমাদের এই অবস্থা দেখে তো রেগে কাঁই। ক্লাসের সব ছেলেদেরকে একচেটিয়া মার দিলেন। পুরো বছরে ম্যাডাম এর হাতে একবারি মার খেয়েছি তাও সেই দুষ্টামির জন্য। ম্যাডাম আমাকে অনেক আদর করতেন। আমি ক্লাস সেভেনে স্কুল ছেড়ে যাওয়ার পর ম্যাডাম নাকি কয়েকবার এসে আমাকে খুঁজেছিলেন। পরে ম্যাডাম সেই স্কুল ছেড়ে বিদেশ চলে যান। আমার সাথে ম্যাডাম এর আর দেখা হয়নি।
কেন মনে নেই তা পরে বুঝলাম। আমার যে দুজন ছোটবেলার বন্ধুর কথা আমি বলেছি শোভন এবং অপু, তাদের সাথে আমার এখনও যোগাযোগ আছে। কিন্তু আমার গ্রামের সেই বন্ধুগুলোর কারো সাথেই আমার আর যোগাযোর হয়নি। সেই একটি বছর তাদের সাথে কাটিয়ে এখন তাদের নাম মনে করতে পারছিনা। আমি নিজের কাছেই অনেক লজ্জিত। ক্লাস ফাইভ এর বছর আমার জন্য অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। কারণ এর আগে আমি ছিলাম শহরের পুতুল পুতুল ছেলে। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতাম, পরিষ্কার কাপড় পরতাম, ভালো ছাত্র ইত্যাদি। কিন্তু ওই একটি বছর যে আমি কত পরিবর্তিত হয়েছিলাম তা বলে শেষ করা যাবে না। বন্ধুদের সহায়তায় সাইকেল চালানো শিখেছি, গাছে চড়েছি, বুনো ফল খেয়েছি, কত দূরে দূরে যে চলে গিয়েছি তা নিজেও জানি না। একেকদিন টিফিন এর সময় আমাদের অভিযান শুরু হত। এক-দেড় ঘন্টায় শেষ হত সেই অভিযান। আমি তাদের সাথে থাকতাম, তারা আমাকে নানান জিনিস চেনাত, কোনটা কি তা বুঝাত, আরো কত কি!!!
কয়েকটি মজার ঘটনা বলি। একবার এক বন্ধুর সাইকেল দিয়ে সাইকেল চালানো শিখছি, ওরা আমাকে পেছন থেকে ধরে রেখেছে, আমি প্যাডেল ঘুড়াচ্ছি। কিন্তু কখন যে ওরা সাইকেল পেছন থেকে ছেড়ে দিয়েছে আমি জানি না। হঠাৎ সামনে দেখি আমার ক্লাসের মেয়েরা এক্কা দোক্কা খেলছে। আমি ওদের কাছে পৌঁছে গেছি আর চিৎকার করছি "সাইকেল থামা, সাইকেল থামা"। কিন্তু আমার পেছনে তো কেউ নাই । কে থামাবে? আমি ব্রেক করতে পারিনা। দিলাম ক্লাসের এক মেয়ের গায়ে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা। ওই ব্যাচারী অনেক ব্যথা পেল। অনেক কান্নাকাটি করল। একমাত্র হেড-মাষ্টার এর নাতি দেখে ছাড় পেয়ে গেলাম। পরে সেই মেয়েকে এক পাতা নাপা কিনে দিয়েছিলাম।
আরেকবার এক বন্ধু এসে বলল "বান্দরশলা চিনিস?" আমি বলি "না"। পরে সে আমাকে বান্দরশলা এনে দেয়। বলে এইগুলা কারো গায়ে দিবি আর ওরা চুলকাতে চুলকাতে পাগল হয়ে যাবে। তখন ক্লাসে দুইটা ভাগ। ছেলেরা এক দল। মেয়েরা এক দল। আসলে ওই বন্ধু চাচ্ছিল আমাকে দিয়ে মেয়েগুলাকে একটু শায়েস্তা করতে। কারণ তারা যদি ধরা খায় তাহলে হেব্বি পিটুনি আছে। আর আমি ধরা খাইলে কোন সমস্যা নাই। আমি তখন তো অত বুঝি নাই। ওদের কথা মত মেয়েদের পাশে গিয়ে কাগজ খুলে দিলাম ফুঃ। আর তার কিছুক্ষন পর দেখি জাদু শুরু হয়েছে। সব মেয়েরা চুলকানো শুরু করেছে। তবে বান্দরশলা তো মালিক মানে না, তাই কিছু উড়ে এসে আমাদের গায়েও আশ্রয় নিয়েছিল। তাই চুলকানির জাদু আমাদেরো ছাড় দেয়নি। সেইদিন চুলকানির জ্বালায় আমাদের ক্লাস করা হয়নি। তবে আনন্দের বিষয় ছিল কেউই ধরা খায়নি।
সেই বান্দরশলা নিয়ে কত কাহিনী...ক্লাসে একটাই হিন্দু ছেলে ছিল আমরা তাকে বান্দরশলা দিয়ে কালেমা পড়িয়েছিলাম। আমরা ভাবলাম কি পূণ্যের কাজ করে ফেলেছি। তখন শুনেছিলাম কেউ যদি অন্য ধর্মের কাউকে মুসলিম বানায় তাহলে বেহেশতে যাবে। আমরা তো ভাবলাম আমাদের বেহেশত নিশ্চিত। হাহাহা...
সেই ক্লাসের এখন দুইটা মেয়ের নাম শুধু মনে আছে। একজন হল খালেদা (বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মিল থাকায়), আর আরেক জন হালিমা (যে এখন আমার মামী)। এছাড়া আর কারো নামই আমার মনে নাই। আমার ক্লাস ফাইভ এর সকল বন্ধুদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। হয়তো তোদের সাথে কখনো দেখা হবে না। তবে তোরা সবসময় ভালো থাকিস।
ক্লাস সিক্সের একটা ঘটনা ভুলে গিয়েছিলাম। একবার ৩-৪টা তেলাপোকা ধরে একটা ব্রাউন পেপারে মুড়িয়ে ক্লাসে নিয়ে গেছি। ক্লাসে ছিল আনিস নামের বিশাল এক ছাত্র। তখন মনে হত "আলিফ লায়লার" দৈত্য। যাই হোক আনিসকে বললাম যে ওর জন্য গিফট এনেছি। ও তো খুশি হয়ে গিফট খুলল। আর তখন সব তেলাপোকা আনিস এর গা বেয়ে উঠতে লাগল। আর তার সে কি চিৎকার!! আমাদের তো হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গিয়েছিল।
আরেকবার ক্লাসের সব ছেলেদের মাথায় কি এক ভূত চাপল। হাতের চামড়া চুষতে থাকলে রক্ত জমাট বেধে জায়গাটা লাল হয়ে যায়। আমরা হঠাৎ এক খেলা শুরু করলাম যে কে কার চেয়ে বেশি লাল করতে পারে। যেই বলা সেই কাজ নিজেই নিজের হাতের চামড়া চুষছি আর দেখছি কতটা লাল হয়েছে। আমাদের এক ম্যাডাম ছিল নাম নীলিমা। তিনি এসে আমাদের এই অবস্থা দেখে তো রেগে কাঁই। ক্লাসের সব ছেলেদেরকে একচেটিয়া মার দিলেন। পুরো বছরে ম্যাডাম এর হাতে একবারি মার খেয়েছি তাও সেই দুষ্টামির জন্য। ম্যাডাম আমাকে অনেক আদর করতেন। আমি ক্লাস সেভেনে স্কুল ছেড়ে যাওয়ার পর ম্যাডাম নাকি কয়েকবার এসে আমাকে খুঁজেছিলেন। পরে ম্যাডাম সেই স্কুল ছেড়ে বিদেশ চলে যান। আমার সাথে ম্যাডাম এর আর দেখা হয়নি।
আমার স্কুল এবং বন্ধুরা
ভাবছি আজ ছোটবেলার বন্ধুদের কথা একটু স্মরণ করি। আমার প্রথম স্কুল ছিল "ওয়েসিস কিন্ডার গার্টেন"। ক্লাস "নার্সারি" তে সেখানে ভর্তি হই। তখন আমার বন্ধু ছিল শোভন (শজারু), অপু। তখন থেকেই ক্লাসে আমার রোল এক। তাই টিচার স্টুডেন্ট সবার কাছেই একটু অন্য সমাদর পেতাম। একবার মনে আছে শোভন এক জোড়া কেড্স পড়ে ক্লাসে এল। ওই কেড্স এর দুই পা দুই রকম। এক পায়ে একটি মিউজিক বাজার যন্ত্র আছে, সুইচ টিপলে তা বাজে। ওই দিন ক্লাসে কিছুক্ষন পর পরই আমরা মিউজিক বাজাতে থাকলাম। অনেক মজা পেয়েছিলাম। পরে আম্মুকে বললাম আমাকেও অই রকম জুতা কিনে দিতে হবে। অনেক খুঁজে পেতে শেষ পর্যন্ত ওই রকম কেড্স কিনলাম কিন্তু তাতে মিউজিক ছিলনা, ছিল একটি কম্পাস। ওই জুতা পড়ে আমার সে কি গর্ব...ক্লাস ফোর পর্যন্ত ওই স্কুলে পড়েছি। এবং শেষ পর্যন্ত রোল এক নিয়েই স্কুল ছেড়েছি।
আমার দ্বিতীয় স্কুলের নাম "মুছাপুর দক্ষিন পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়"। ক্লাস ফাইভ এ সরকারি স্কুলে যাওয়ার কারণ ছিল সরকারি বৃত্তি দেয়া। কারণ তখন বেসরকারি স্কুল থেকে বৃত্তি দেয়া যেতনা। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার নানা। তাই সেখানেও অন্য রকম আদর পেয়েছি সব টিচারদের ক্লাস থেকে। ওই বছর বৃত্তি পরীক্ষায় আমি ১০ নম্বর এর একটি অঙ্ক ভুল করি। ভেবেছিলাম বৃত্তি পাবনা। অঙ্ক যে ভুল হয়েছে তা ভয়ে আব্বুকে বলিনি। শেষ পর্যন্ত সধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেলাম। পরে আক্ষেপ হল যদি অঙ্কটা না ভুল করতাম তাহলে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেতাম।
ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হলাম "গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়"। হাই স্কুল নতুন আনন্দ। স্কুলের প্রথম ক্লাসেই আমার বন্ধু হল সাব্বির। ও ক্লাসের দরজায় দাড়িয়ে তেঁতুলের আচার খাচ্ছিল। আমাকেও সাধল। আমি খেলাম। তারপর থেকেই আমরা দুজন বন্ধু। খুব ভাল বন্ধু। প্রতিদিন আমরা সেই তেঁতুলের আচার খেতাম। পরে আর বন্ধু হল লিমন (আমরা ডাকতাম লেমন), হিমেল, রিফাত, আনিস এবং আরো অনেকে। প্রতিদিন বাসা থেকে দুই টাকা দিত। সেইটা দিয়ে চটপটি বা আচার বা আইস্ক্রিম খেতাম। তখন বস্তা আইসক্রিম নামে এক ধরনের সেকারিন পানি পাওয়া যেত। বস্তা শেপ এর। সেই আইসক্রীম অনেক খেয়েছি। তখন অনেক মজা লাগত। এখন হাসি পায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে সেই দিনে ফিরে যাই। ক্লাস সিক্স এর বছর ছিল আমার জীবনের একটা শ্রেষ্ঠ বছর। কিন্তু তখন সেটা বুঝি নি ঠিকমত। তখন মনে হত কেন বড় হই না। বড় হলে আরো মজা হত। আর এখন অঞ্জন দত্তের মত মনে হয় "তখন তো বুঝি নি বড় হওয়া বড়ই শক্ত, বয়সের সাথে সাথে কমে যায় চোখের জল"- আসলেই তাই। মনে হয় চোখের জল শুকিয়েই গেছে।
ক্লাস সিক্স এ আমার বন্ধু শজারু শোভন এর সাথে আবার দেখা হয় কোচিং সেন্টার এ। কোচিং এর ছাত্র আমরা মাত্র দুই জন। শোভন এর মাধ্যমেই আমার গল্পের বই পড়ার হাতেখড়ি। আমার প্রথম পড়া বই তিন গোয়েন্দা সিরিজ এর "নেকড়েমানব"। পড়ি আর শিহড়িত হই। শোভন এর কাছে আরো বই চাই। কিন্তু ওর কাছে বেশি বই ছিল না। তখন ও বলল যে ওর পরিচিত এক ছেলের কাছে অনেক বই আছে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে। এক বৃষ্টির দিনে আমরা সেই ছেলের বাসায় গেলাম। আর আমার সাথে পরিচয় হল আমার খুব কাছের এক বন্ধু "রাশেদ' এর সাথে। রাশেদ এর তখন বিশাল এক ওয়্যারড্রব এর এক ড্রয়্যার বই। প্রায় দুই-তিনশ বই হবে। দেখে তো আমার চোখ বড় বড়। ওই বইগুলা রাশেদ ওর বোনের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। কিন্তু রাশেদ এর কাছে সিরিজ এর নতুন বই এর কালেকশন তেমন নাই। আমি তখন কয়েকটা নতুন বই কিনেছি। তার একেকটা বই এর বিনিময়ে আমি রাশেদ এর কাছ থেকে ৮-১০টা করে বই নেই। রাশেদ এর কিচ্ছু করার ছিল না। এখন সেই কথাগুলো মনে পড়লে হাসি পায়। তখন রাশেদ এর সাথে আমার অনেক ঘনিষ্ঠতা হয়। রাশেদ এর বাসার নিয়মিত হই আমি। শুধু বই এর লোভে না। লোভ আরেকটা ছিল। তা হল রাশেদ এর টিভি গেম। তখন ওর বাসায় নিয়ম করে মারিয়ো খেলতাম। কখনো ও মারিয়ো আমি লুইজি, কখনো ও লুইজি আমি মারিয়ো। এর মধ্যে শজারু কোচিং ছেড়ে গেল। রাশেদ আমার সাথে সেই কোচিং এ ভর্তি হল। অনেক মজা হয়েছে তখন। রাশেদ তখন পড়ত "রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল" এ। তবে দুইজন দুই স্কুল এ থাকলেও বন্ধুত্ত্বে কোন সমস্যা হয়নি। সেবার ক্লাস সিক্স এও গরীবে নেওয়াজ স্কুলের ছেলেদের মধ্যে প্রথম হই। আর পুরো ছেলে মেয়ে মিলিয়ে চতুর্থ। কিন্তু গরীবে নেওয়াজ স্কুলে আর থাকা হয়নি। সেভেনে চলে যেতে হয় অন্য স্কুল এ। সে কাহিনী আরেকদিন লিখব। আপাতত আজ এই পর্যন্ত।
আমার দ্বিতীয় স্কুলের নাম "মুছাপুর দক্ষিন পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়"। ক্লাস ফাইভ এ সরকারি স্কুলে যাওয়ার কারণ ছিল সরকারি বৃত্তি দেয়া। কারণ তখন বেসরকারি স্কুল থেকে বৃত্তি দেয়া যেতনা। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার নানা। তাই সেখানেও অন্য রকম আদর পেয়েছি সব টিচারদের ক্লাস থেকে। ওই বছর বৃত্তি পরীক্ষায় আমি ১০ নম্বর এর একটি অঙ্ক ভুল করি। ভেবেছিলাম বৃত্তি পাবনা। অঙ্ক যে ভুল হয়েছে তা ভয়ে আব্বুকে বলিনি। শেষ পর্যন্ত সধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেলাম। পরে আক্ষেপ হল যদি অঙ্কটা না ভুল করতাম তাহলে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেতাম।
ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হলাম "গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়"। হাই স্কুল নতুন আনন্দ। স্কুলের প্রথম ক্লাসেই আমার বন্ধু হল সাব্বির। ও ক্লাসের দরজায় দাড়িয়ে তেঁতুলের আচার খাচ্ছিল। আমাকেও সাধল। আমি খেলাম। তারপর থেকেই আমরা দুজন বন্ধু। খুব ভাল বন্ধু। প্রতিদিন আমরা সেই তেঁতুলের আচার খেতাম। পরে আর বন্ধু হল লিমন (আমরা ডাকতাম লেমন), হিমেল, রিফাত, আনিস এবং আরো অনেকে। প্রতিদিন বাসা থেকে দুই টাকা দিত। সেইটা দিয়ে চটপটি বা আচার বা আইস্ক্রিম খেতাম। তখন বস্তা আইসক্রিম নামে এক ধরনের সেকারিন পানি পাওয়া যেত। বস্তা শেপ এর। সেই আইসক্রীম অনেক খেয়েছি। তখন অনেক মজা লাগত। এখন হাসি পায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে সেই দিনে ফিরে যাই। ক্লাস সিক্স এর বছর ছিল আমার জীবনের একটা শ্রেষ্ঠ বছর। কিন্তু তখন সেটা বুঝি নি ঠিকমত। তখন মনে হত কেন বড় হই না। বড় হলে আরো মজা হত। আর এখন অঞ্জন দত্তের মত মনে হয় "তখন তো বুঝি নি বড় হওয়া বড়ই শক্ত, বয়সের সাথে সাথে কমে যায় চোখের জল"- আসলেই তাই। মনে হয় চোখের জল শুকিয়েই গেছে।
ক্লাস সিক্স এ আমার বন্ধু শজারু শোভন এর সাথে আবার দেখা হয় কোচিং সেন্টার এ। কোচিং এর ছাত্র আমরা মাত্র দুই জন। শোভন এর মাধ্যমেই আমার গল্পের বই পড়ার হাতেখড়ি। আমার প্রথম পড়া বই তিন গোয়েন্দা সিরিজ এর "নেকড়েমানব"। পড়ি আর শিহড়িত হই। শোভন এর কাছে আরো বই চাই। কিন্তু ওর কাছে বেশি বই ছিল না। তখন ও বলল যে ওর পরিচিত এক ছেলের কাছে অনেক বই আছে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে। এক বৃষ্টির দিনে আমরা সেই ছেলের বাসায় গেলাম। আর আমার সাথে পরিচয় হল আমার খুব কাছের এক বন্ধু "রাশেদ' এর সাথে। রাশেদ এর তখন বিশাল এক ওয়্যারড্রব এর এক ড্রয়্যার বই। প্রায় দুই-তিনশ বই হবে। দেখে তো আমার চোখ বড় বড়। ওই বইগুলা রাশেদ ওর বোনের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। কিন্তু রাশেদ এর কাছে সিরিজ এর নতুন বই এর কালেকশন তেমন নাই। আমি তখন কয়েকটা নতুন বই কিনেছি। তার একেকটা বই এর বিনিময়ে আমি রাশেদ এর কাছ থেকে ৮-১০টা করে বই নেই। রাশেদ এর কিচ্ছু করার ছিল না। এখন সেই কথাগুলো মনে পড়লে হাসি পায়। তখন রাশেদ এর সাথে আমার অনেক ঘনিষ্ঠতা হয়। রাশেদ এর বাসার নিয়মিত হই আমি। শুধু বই এর লোভে না। লোভ আরেকটা ছিল। তা হল রাশেদ এর টিভি গেম। তখন ওর বাসায় নিয়ম করে মারিয়ো খেলতাম। কখনো ও মারিয়ো আমি লুইজি, কখনো ও লুইজি আমি মারিয়ো। এর মধ্যে শজারু কোচিং ছেড়ে গেল। রাশেদ আমার সাথে সেই কোচিং এ ভর্তি হল। অনেক মজা হয়েছে তখন। রাশেদ তখন পড়ত "রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল" এ। তবে দুইজন দুই স্কুল এ থাকলেও বন্ধুত্ত্বে কোন সমস্যা হয়নি। সেবার ক্লাস সিক্স এও গরীবে নেওয়াজ স্কুলের ছেলেদের মধ্যে প্রথম হই। আর পুরো ছেলে মেয়ে মিলিয়ে চতুর্থ। কিন্তু গরীবে নেওয়াজ স্কুলে আর থাকা হয়নি। সেভেনে চলে যেতে হয় অন্য স্কুল এ। সে কাহিনী আরেকদিন লিখব। আপাতত আজ এই পর্যন্ত।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)