ক্লাস এইট এ ফিরলাম আবার গরীবে নেওয়াজ এ। ফিরে পেলাম পুরোনো বন্ধু সাব্বির, হিমেলকে। অনেক বন্ধুই তখন অন্য সেকশন এ। ক্লাসে নতুন ভাবে পরিচয় হল সাদমান, অপু, অনিক, শোভন (গোলাপী)-র সাথে। শোভনের সেবার এইট এ দ্বিতীয় বছর। ও প্রথমবার ভালো রেজাল্ট না করায় "সায়েন্স" পায়নি দেখে আবার এইট এ ভর্তি হয়েছে। শোভন এখন আমার অনেক কাছের বন্ধু হলেও সেই বছর শোভনের সাথে আমার তেমন ঘনিষ্ঠতা হয়নি।
এখানে একটা কথা বলে নেই, ক্লাস সেভেন এর শেষের দিকে ক্যাডেট কলেজ এ ভর্তি পরীক্ষা দিতে হত। আমার বাবা আমাকে ক্যাডেট কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলেন বছরের শেষের দিকে। কোচিং সেন্টারের পরিচালক বললেন যে তখন তো পরীক্ষা দেয়ার সময় নাই। পরের বছর যাতে পরীক্ষা দেই। তো ক্লাস এইট এ আমি ক্যাডেট কোচিং এ ভর্তি হলাম। ক্যাডেট ভর্তি কোচিং নিয়ে আরেকদিন বলা হবে। এখন কোচিং এর কথা বললাম কারণ, ক্লাস এইট এ আমাকে সেভেন-এইট এই দুই ক্লাসের বই-ই পড়তে হয়েছে। অর্থাৎ স্কুল, কোচিং নিয়ে মোটামুটি একটা ভালোই চাপ গেছে সে বছর। তবে চাপের মুখেও আনন্দ করতে ভুলে যাইনি।
আমরা ক্লাসের কয়েকজন মিলে একটা গ্রুপের মত তৈরি করেছিলাম। আমি, হিমেল, সাব্বির, অপু, অনিক, সাদমান, লিমন এবং আরো কয়েকজন যাদের নাম মনে নেই। আমাদের স্কুলের একটু সামনে একটা অনেক বড় খালি জায়গা ছিল। অনেকটা পরিত্যাক্ত অবস্থা। তার সামনের অংশে ছিল দুইটা নিম গাছ। সেই গাছ দুইটা ছিল আমাদের বসার জায়গা। কথায় বলেনা যে "বাঁদরামো", আমাদের তখন অবস্থা বাঁদরের মতই। গাছে পা ঝুলিয়ে বসে আড্ডা দেয়া। সে জায়গার চারপাশের দেয়াল ছিল ভাঙ্গা ভাঙ্গা। আমরা কখনো সেই দেয়ালের উপর ঘুরতাম। সেই ছিল এক অন্য রকম এডভেঞ্চার। ভাঙ্গা দেয়াল পার হওয়া। অনেক সবধান থাকতে হত। নাহলে যে পড়ে যেতে হবে। সেই জায়গার সামনে ছিল খুব চিকন একটা গেইট। আমরা প্রায় সেই গেইট এর উপর হেঁটে পার হওয়ার খেলা খেলতাম। মোটকথা ক্লাস এইট এর ওই বছরে আমাদের বড় একটা সময় কেটেছে ওই জায়গা ঘিরে।
এখন কিন্তু সেই জায়গাটা পরিত্যাক্ত নেই। নেই সেই ভাঙ্গা দেয়াল কিংবা সেই নিমগাছগুলো। এখন সেখানে আধুনিক এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। মাঝে মাঝে স্কুলটা দেখে খারাপ লাগে...মিস্ করি আমাদের সেই দিনগুলো।
ক্লাসে সে বছর আমার সাথে খুব ঘনিষ্ঠতা হয় অপুর সাথে। মজা হত বেতন নেয়ার দিনগুলোতে। আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন "একরাম স্যার"। তিনি বেতন নেয়ার দিন খুব দিশেহারা হয়ে যেতেন। কারন ক্লাসে এত বেশি ছেলে ছিল যে স্যার কুলিয়ে উঠতে পারতেন না। আর ছেলেরাও কম যায় না। এত কথা বলত যে ক্লাস টা তখন মাছের বাজার হয়ে যেত। আমি আর অপু তখন ইচ্ছা করে বেশি বেশি কথা বলতাম। স্যার তখন বিরক্ত হয়ে আমাদেরকে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে ভাঙ্গতি করে আনতে বলতেন। আমি আর অপু তখন ভাংতির নাম দিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতাম। তারপর দুই ঘন্টা ঘুরে এসে স্যারকে ভাংতি দিতাম।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের বৃত্তি কোচিং শুরু হয়। সেইটা ছিল আরেক মজার অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে কোচিং করে তারপর শুরু হত খেলা। আবার সেই কোচিং এর দোহাই দিয়ে ক্লাস মিস দিতাম। আমরা নিয়ম বানালাম যে, যারা বৃত্তি কোচিং করবে তারা টিফিন এর পরে ক্লাস করা লাগবে না। এই নিয়ম এপ্লাই করে আমরা ক্লাস মিস দিতে শুরু করলাম। আসলে এই ধরনের কোন নিয়ম ছিল না। পরে ধরা খেয়ে আবার ক্লাস করা শুরু করি। তো এইভাবে পরীক্ষা দেই। আবার ভালো করি। বার্ষিক পরীক্ষায় রেজাল্ট হয় রোল তিন। অনিকের এক আর অপুর দুই। কিন্তু সেবার বৃত্তি আর পাওয়া হয়নি। ওই যে ক্যাডেট কলেজ এর কোচিং এর জন্য ভালোভাবে পড়েছি। তাই বৃত্তি মিস। অবশ্য এর সুফলও পরে পেয়েছি, ক্যাডেট কলেজে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম।
মোটামুটি এইভাবে এইট এর বছরটা পার করলাম...:) :)
খূব মজ়া লগতেছে পডে।ঐ দিকে আমার ব্লগ শেষ। অনেক বানান ভুল আমার। অনেক দিন অভ্র ব্যবহার করিনাই তাই।
উত্তরমুছুনসমস্যা নাই। লিখতে লিখতে ঠিক হয়ে যাবে...
উত্তরমুছুনঅই তোর ছবি টা তো খূব সুন্দর হইসে, বাচ্চা মেয়েরা এই ব্লগ পড়লে প্রেমে পড়বে টাইপ...হা হা
উত্তরমুছুননামহীন, জেসি আপু, আবার???
উত্তরমুছুনbujhli kivabe eta ami!!!:-(
উত্তরমুছুন